সফলতাকে ধরে রাখতে সফল ব্যক্তিরা যে ৮টি বদঅভ্যাস ত্যাগ করেছেন

| - By

আমরা অনেকেই চিন্তা করে থাকি যে সফল ব্যক্তিদের যশ ও খ্যাতির পিছনের রহস্য কি? তারা এমন কোন কাজটি করে থাকে যা তাদের নাম, যশ ও খ্যাতির শিখরে পৌছে দেয়। আসলেই কি এর পেছনে কোন বিশেষ কাজ রয়েছে? নাকি পুরোটাই কোন জাদুর ফলাফল। আপনি জেনে অবাক হবেন যে সফল ব্যক্তিদের সফলতার পেছনে যা কাজ করে তা কোন যাদুমন্ত্র নয়, আসলে তাদের এমন কিছু কাজের অভ্যাস রয়েছে যা তাদেরকে সফলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

প্রকৃতপক্ষে আমাদের সবার মধ্যেই এমন কিছু বদঅভ্যাস রয়েছে যা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করার পথে বাধা হয়ে দাড়ায়। যদি আপনি আসলেই নিজেকে সফল হিসেবে দেখতে চান তবে সফলতার সফর শুরু করার পূর্বে এই অভ্যাসগুলির পরিত্যাগ করা আপনার জন্য অতীব জরুরী।

১. কাজের সময় ইন্টানেট ব্রাউজিং :
আমরা অনেকেই কম্পিউটার ভিত্তিক বিভিন্ন কাজ করে থাকি, এবং অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আমাদের কাজগুলি করতে অনেক বেশি সময় ও লেগে যায়। আর এর মূল কারনটি হলো আপনার ব্রাউজারে ওপেন থাকা অপ্রয়োজনীয় ছোট ছোট ট্যাবগুলি যার পিছনে আপনি অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন। অনেক ক্ষেত্রে আমরা অল্প সময় ব্যয় করবো মনস্থির করলেও কখন যে ৫ মিনিট ১৫ মিনিটে রুপ নেয় তা টের পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে আর আমাদের টের পাওয়া আগের কাজের সময়টি বৃথা যায়। কাজের সময় কাজটিকে সঠিক রুপে সম্পন্ন করতে হলে অবশ্যই আপনার ফোকাস আপনার কাজের দিকেই থাকতে হবে। অন্যথায় আপনি আপনার কাজের স্থিরতা হারাবেন এবং কোন কিছুই ঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারবেন না।

২. কোন কিছুকে নিখুঁত করার চেষ্টা :
আমরা যাই করি না কেন কোন কিছুই আসলে পুরোপুরি ভাবে নিখুঁত করে করা সম্ভব নয়। কিন্তু এটা জানা পরেও আমরা অযথাই একটি কাজকে নিখুঁত এর চেয়ে নিখুঁত করার বৃথা চেষ্টা করে যেতেই থাকি যার ফলে আমাদের শ্রম, মেধা আর সময় ৩টি জিনিসেরই অপচয় ঘটে। সফল হওয়ার জন্য আপনার অবশ্যই জানা উচিত যে ঠিক কোন সময় আপনাকে কাজটি বন্ধ করতে হবে। যদি তা না করেন তবে এটি একটি পাগলামিতে পরিণত হবে যা আপনাকে কোন রত আশানুরুপ ফলাফল দিতে তো পারবেই না উল্টো শারিরীক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য করবে।

৩. মিটিং এ অভ্যস্ত হওয়াঃ
হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়েছেন। মিটিং এর জন্য যে সময় ব্যয় করা হয় সে সময়ে সৃনশীল অনেককিছু করা সম্ভব। তাই সত্যিকার অর্থে সৃজনশীল ও সফল হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই মিটিং এড়িয়ে চলার অভ্যাস করতে হবে। মিটিং শুধু তখনই করুন যখন সেটি খুবই জরুরী। তাছাড়া সে সময়টি অন্যত্র কাজে লাগান।

৪. দ্রুত ইমেইল রিপ্লাই এর জন্য ইমেইল এ বেশি সময় ব্যয় করা:
আমরা অনেক সময় কায়েন্টদের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য দ্রুত ইমেইল এর রিপ্লাই দেওয়ার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু এক্ষেত্রে শুধু তাদের ইমেইলগুলির তাৎক্ষনিক রিপ্লাই করুন যে কায়েন্টরা আপনার নিকট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অন্যদের জন্য একটি অটোরেসপন্ডার ইমেইল তৈরী করে রাখুন যাতে তারা বোঝে যে আপনি শীঘ্রই তাদের সাথে যোগাযেগ করবেন। এটি আপনাকে আরো অধিকতর সময় দিবে এবং আপনি আরো বেশি পরিমাণে কাজের প্রতি মনোযোগী হতে পারবেন। ইমেইলের উত্তর করার জন্য এবং কাজের জন্য পৃথক পৃথক সময় নির্ধারণ করা খুবই জরুরী।

৫. এলার্ম বন্ধ করা বা এড়িয়ে যাওয়া:
মানব মস্তিষ্ক পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রহস্য। আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের দৈনন্দিন কাজের একটি তালিকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরী করে এবং সেই অনুযায়ী গুম থেকে উঠার ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক করতে থাকে। এতে আমরা একটি নির্ধারিত কর্মতালিকায় অভ্যস্ত হয়ে উঠি। কোন কারণে যদি এই প্রক্রিয়ার ব্যঘাত ঘটে তাহলে মস্তিষ্ক এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠভাবে সম্পাদন করতে অক্ষম হয়ে ওঠে এবং অভ্যাসটি পুনরায় গঠন করা আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।

৬. একসাথে একাধিক কাজ করার অভ্যাস:
একসাথে অনেক কাজ করা আর আমাদের মস্তিষ্ককে কনফিউজ করা এক ব্যাপার। যখন একসাথে আপনি একাধিক কাজে মনোনিবেশ করতে চান তখন আপনার মস্তিষ্ককে একই সময়ে একাধিক ভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা অনেকাংশেই হ্রাস পায় এবং আমরা সৃজনশীলতা হারাই। তো সঠিক পন্থাটি হলো একসাথে একাধিক কাজ না করে একটি তালিকা তৈরী করা এব সে অনুযায়ী এক এক করে কর্ম সম্পাদন করা। এর ফলে আপনার শ্রম এবং সময় দুটিই সাশ্রয় হবে এবং আপনি সব কাজেই সমান দক্ষতা দেখাতে সক্ষম হবেন।

৭. কঠিন কাজটি ছেড়ে দেওয়া:
সহজ এবং কঠিন কাজের ক্ষেত্রে সব সময় কঠিন কাজটিই আগে করা উচিৎ কারণ কঠিন কাজটি ফেলে রাখলে এটি প্রতিনিয়ত আপনাকে চিন্তাগ্রস্থ্য করবে এবং অন্যান্য কর্মসম্পাদনে বাধা সৃষ্টি করবে। তো সবচেয়ে কার্যকরী বুদ্ধিটা হলো ঝামেলার কাজটি আগেই সেরে ফেলুন এতে একদিকে আপনি যেমন চিন্তামুক্ত থাকবেন অন্যদিকে তেমনি বাকী কাজগুলোতেও উদ্যম শক্তি ফিরে পাবেন।

৮. বিছানায় প্রযুক্তির সংস্পর্শে থাকা:
সত্যি কথা বলতে আমাদের অনেকেই এ ব্যাপারে কোন ধারনাই নেই যে শোবার সময় ইন্টারনেট বা প্রযুক্তিগত ডিভাইসগুলির সংস্পর্শ আমাদের কতটা ক্ষতি সাধন করে। অন্ধকার ঘরের তীব্র আলোর প্রতিফলন আপনাকে অনেটাই সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগাতে সক্ষম। আমরা যখন বিছানায় যাই তখন আমরা স্বাভাবিক ভাবেই ঘুম এবং কান্তি অনুভব করি কিন্তু ফোনের আলো প্রতিনিয়তই আমাদের চোখকে বিরক্ত করতে থাকে। আর আমাদের অনেকেরই এটা সম্পর্কে কোন ধারনাই থাকে না যে ঘুমের মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমরা আসলে কি করছি। ফলশ্রুতিতে আমাদের সৃজনশীলতা ও সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতাহীনতায় ভুগতে হয়।




Leave a reply